স্ত্রী ও সন্তানকে কুপিয়ে খুনের পর বিষপান স্কুল শিক্ষকের !
সোমবার সকালে রক্তে রাঙা বিভীষিকাময় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ত্রিস্ত্রী ও সন্তানকে কুপিয়ে খুনের পর বিষপান স্কুল শিক্ষকের !
সোমবার সকালে রক্তে রাঙা বিভীষিকাময় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ত্রিপুরা গোমতী জেলা উদয়পুরের চন্দ্রপুর বেলতলী এলাকা। পারিবারিক কলহ নাকি মানসিক অবসাদ— কারণ যাই হোক না কেন, এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি সুখী পরিবার। অভিযোগ, নিজ হাতে স্ত্রী ও সন্তানকে নৃশংসভাবে খুন করেছেন চন্দ্রপুর বটতলী স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক অজিত দাস। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরবেলায় হঠাৎই অজিত দাসের বাড়ি থেকে আর্তচিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তাঁরা দেখতে পান ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রূপা দাস ও তাঁদের একমাত্র পুত্র সন্তান দিগন্ত দাস। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মা ও ছেলের। অন্যদিকে, ঘরে ছটফট করছিলেন অজিত দাস। দেখা যায়, পরিবারের বাকিদের শেষ করে দিয়ে তিনি নিজেও বিষপান করেছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদয়পুর রাধা কিশোরপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক অজিত দাসকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে গোমতী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সেখানে কড়া পুলিশি পাহাড়ায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। পরিবারের সদস্য নারায়ণ চন্দ্র দাস জানান, অজিত দাস গত কয়েকদিন ধরে চরম মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। তবে সেই অস্থিরতা যে এমন ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। বিজ্ঞান শিক্ষকের মতো এক দায়িত্বশীল শিক্ষকের এমন নৃশংস আচরণে হতবাক তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে গোটা ছাত্রসমাজ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, মানসিক অবসাদ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড। তবে এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বিবাদ বা গভীর রহস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু এবং গৃহকর্তার আত্মহত্যার চেষ্টায় গোটা উদয়পুর জুড়ে এখন শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। একটি সাজানো সংসার কেন এভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। ...more
Comments (0)
Please login to leave a comment.